সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পোল্ট্রি ফার্মের চারিপাশের পর্দা খোলাকে কেন্দ্র করে বচসার জের ধরে ফার্ম মালিকের ছুরিকাঘাতে মো. ইব্রাহিম হোসেন (২৭) নামে প্রতিবেশী এক যুবক নিহত ও তার বড় ভাই মো. রুহুল আমিন গুরুতর আহত হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের সাতপোতা বেডবাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত রুহুল আমিনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ ঘাতক আরিফ হোসেনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত ইব্রাহীম হোসেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের সাতপোতা বেডবাড়ি গ্রামের সোলেমান সরদারের ছেলে।
আটককৃতরা হলো, কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের সাতপোতা বেডবাড়ি গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম, আরিফুলের পিতা জামাল উদ্দি, আরিফুলের স্ত্রী সাথী ও আরিফুলের মা শাহানারা খাতুন।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রুহুল আমিন জানান, কলারোয়ার কেরালকাতা ইউনিয়নের সাতপোতা বেড়বাড়ি গ্রামের আরিফুল ইসলাম পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই বসতবাড়ির উঠানে মুরগির খামার পরিচালনা করতেন। খামারের তীব্র দুর্গন্ধে শিশু-বৃদ্ধসহ আশপাশের মানুষ অতিষ্ঠ থাকলেও ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেন না। তবে শীতের সময় খামারের চারিপাশে পর্দা দিয়ে ঘেরা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে গরম পড়ায় সোমবার বেলা দুইটার দিকে আরিফ হোসেন তার ফার্মের পর্দা খুলে দিতে থাকলে রমজান মাসে খামারের দুর্গন্ধ ছড়াবে বলে পর্দা না খুলতে অনুরোধ করেন রুহুল আমিন।
বিষয়টি নিয়ে রুহুল আমিন ও আরিফ হোসেনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ফার্মে থাকা ছুরি দিয়ে রুহুল আমিনকে আঘাত করে আরিফ। বিষয়টি দেখতে পেয়ে ছোট ভাই ইব্রাহিম হোসেন বড় ভাইকে রক্ষার জন্য এগিয়ে এলে আরিফ তাকেও (ইব্রাহিম) উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।
গুরুতর আহত রুহুল আমিনকে উদ্ধার করে প্রথমে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকলে বিকালে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ ঘাতক আরিফ হোসেন, তার বাবা জামাল উদ্দিন, তার (আরিফ) সাথী ও মা শাহানারা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে।
কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহিন হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘাতক আরিফসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার কওে ময়না তদন্তের জন্য সদও হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের প্রস্ততি নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
খুলনা গেজেট/এমএনএস

